রবিউল ফিরোজ’র রম্য ‘ওসি-ডিসি’
বিয়ে করতে এসেছে পাত্রপক্ষের লোকজন। সাথে আছে ঘটক সাহেবও। ছেলে দেখতে খুব সুন্দর-হ্যান্ডসাম। ছেলের দিকে সকলেই প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। গরিব ঘরে এমন জামাই পাওয়া পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। বাইরের লোকজন উঁকিঝুঁকি মারে। তারা ছেলের ত্রুটি খুঁজতে থাকে। প্রশ্ন করে, ছেলে দেখতে শুনতে মাশাল্লাহ ভালো। কিন্তু সে কি কাম করে?
এবার ঘটক সাহেবের মুখে খই ফুটতে থাকে। আরে মিয়া,ছেলে থাকে বিদেশ। কাড়িকাড়ি ট্যাকার মালিক। তোমাদের মাইয়াডা সুন্দর, আমার সাথে সম্পর্কও ভাল, তাই নিয়া আইলাম এইখানে। যদি একবার পছন্দ হয়া যায় তাহলেই ভালোর উপুর ভালো।
যথাযথ উত্তর না পেয়ে বাড়ির লোকজন আবার বলে, তাতো বুঝলাম ঘটক সাব। কিন্তু বিদেশে ছেলে কি কাজ কাম করে?
ঘটক সাহেব এবার মৃদু ধমক লাগান। মিয়া,বুঝেন নাতো কিছুই। আমাদের ছেলে ডিসি-ওসি।
ঘটকের কথা শুনে সবাই থ' হয়ে যায়। বাপরে বাপ! ওসি ডিসির মত একজন জামাই পাওয়া সাত জনমের ভাগ্য। সুতরাং ফসকে যাওয়া যাবে না। তাই মহা ধুমধামের সাথে সেদিনই বিয়ে হয়ে যায়।
বাসরঘরে কৌতূহলী নববধূ বরকে জিজ্ঞেস করে, আমার মতো গরিব ঘরের মেয়েকে ক্যান বিয়া করলেন?
বর বলে, তুমি যে অনেক সুন্দর তাই।
বউ খুশি হয় কিন্তু তার জানার বাসনা নিবৃত্ত হয় না। আবার বলে, আমারে বুঝায়ে কন তো ডিসি ওসি মানেডা কি? তারা তো শুনি খুব বড় পদের মানুষ । আপনেও বুঝি তাই?
বর বলে, ঠিকই কইছো,আমিও খুব পদের লোক। ডিসি মানে হলো ডিশ ক্লিনার, আর ওসি মানে ওনিয়ন কাটার। এবার বুঝছো?
বউ অতখানি না বুঝেও খুশি হয়। স্বামীগর্বে তার বুকটা ভরে উঠে।
ছবিসহ লেখা পাঠান এই ঠিকানায়-
kachagollamagzine@gmail.com

No comments