চাঁন মিয়া। ছবি: রাজীব কম্পিউটার
মোহাম্মদ অংকন, ঢাকা: বাঁশির মনমাতানো সুরে ও সুমধুর কণ্ঠে গান গেয়ে গ্রাম-বাংলার মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন এক অন্ধ বংশীবাদক। তিনি প্রায় ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রাম-গঞ্জের গানের আসরে গান করেন ও বাঁশি বাজান। তিনি হলেন চাঁন্দু মিয়া ওরফে চাঁন। প্রতিভাবান এই শিল্পী নাটোর জেলার সিংড়া থানার কলম ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর গ্রামে ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোঃ আকবর আলী ও মাতার নাম মোছাঃ কুলছম বেগম। দুই সন্তানের বাবা চাঁন মিয়া গান গেয়ে ও বাঁশি বাজিয়ে সংসার চালান। তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে প্রথিতযশা শিল্পী হওয়ার স্বপ্নটা অধরাই রয়ে গেছে। তাঁর বাঁশির মোহনীয় সুর যেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছানোর যোগ্যতা রাখে। কিন্তু নেই কোনো পৃষ্ঠপোষকতা। পাড়াগাঁয়ে মিডিয়ার অনুপ্রেবেশ না থাকায় অন্ধ চাঁন মিয়া যেন অন্ধকারেই রয়ে গেছেন।
চাঁন মিয়া দুঃখ করে জানালেন, ‘আমি দেশের বিভিন্ন সুনামধন্য শিল্পীদের গানে কাজ করেছি। কিন্তু তারা আমাকে পারিশ্রমিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন। আমার প্রতিভার কোনো মূল্যায়ন কেউ করেননি।’ সত্যই তাঁর প্রতিভার মূল্যায়ন করা হয়নি। নতুবা তিনি পাঁড়াগাঁয়ের অন্ধগলিতে পড়ে থাকতেন না। তিনি আরও বলেন, ‘মিডিয়ায় কাজ করার বড়ই শখ আমার। কিন্তু কে আমাকে তুলে ধরবে? কে আমাকে ঢাকায় আনবে?’ তাঁর ধারণা, বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হানিফ সংকেত’র ‘ইত্যাদি’ প্রোগ্রামে তাকে তুলে ধরা হলে তিনি কাজের সুযোগ পাবেন, প্রতিভার মূল্য পাবেন। তাঁর দারিদ্র বিমোচিত হবে।
রাজিবুল হাসান রাজিব নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘বংশীবাদক চাঁন মিয়ার পক্ষ থেকে হানিফ সংকেত’র প্রতি আমাদের আকুল আবেদন, প্রতিভাবান এই বংশীবাদকে জনপ্রিয় টেলিভিশন প্রোগ্রাম ‘ইত্যাদি’তে দেখানো হোক।’ চাঁন মিয়ার সাথে কাজ করেন সুলতান হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ‘ইত্যাদি’ প্রোগ্রাম থেকে অসংখ্য খ্যাতিমান শিল্পী, অভিনেতার জন্ম হয়েছে। আবার বিশেষ সুবিধাবঞ্চিতরাও পেয়েছেন আর্থিক সহযোগিতা, মূল্যায়ন করা হয়েছে তাদের প্রতিভাবকে। আশা করছি, আমাদের চাঁন ভাইয়ের প্রতি ‘ইত্যাদি’র নজর পড়বে।’
ছবিসহ লেখা পাঠান এই ঠিকানায়- kachagollamagzine@gmail.com

No comments