Home

বিজ্ঞপ্তি- কাঁচাগোল্লা ম্যাগাজিনের নিয়মিত প্রকাশনা চলছে। এখনই আপনার স্বরচিত সাহিত্যকর্ম পাঠিয়ে দিন। ই-মেইল করুন: kachagollamagzine@gmail.com  
    আপনার লেখা প্রকাশের নির্ভরযোগ্য ম্যাগাজিন। 


নাটোরের কাঁচাগোল্লা

নাটোরের কাঁচাগোল্লা

মোহাম্মদ অংকন

কাঁচাগোল্লার কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নাটোরের বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা। মূলত গরুর দুধ থেকে প্রাপ্ত কাঁচা ছানা দিয়ে তৈরি করা হয় বলে এটি ‘কাঁচাগোল্লা’ নামে পরিচিত। নাটোর ছাড়াও বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় কাঁচাগোল্লা পাওয়া যায়।

নাটোরের কাঁচাগোল্লা সৃষ্টির চমত্কার একটি কাহিনি রয়েছে। শোনা যায়, নিতান্ত দায়ে পরেই নাকি এই মিষ্টি  তৈরি করা হয়েছিল। নাটোর জেলা শহরের লালবাজারের শ্রী মধুসূদন পালের প্রসিদ্ধ একটি মিষ্টির দোকান ছিল।  দোকানে ছিল কয়েকটি বড় বড় চুলা। মধুসূদন এসব চুলায় দেড় থেকে দু’মণ ছানা দিয়ে রসগোল্লা, পানিতোয়া, চমচম, কালো জাম প্রভৃতি মিষ্টি তৈরি করতেন। তাঁর দোকানে কাজ করতেন দশ-পনেরো জন কর্মচারী। হঠাত্ একদিন মিষ্টির দোকানের কারিগরেরা আসেননি। মধুসূদনের তো মাথায় হাত! এত ছানা এখন কী হবে? তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন। অবশেষে নষ্টের হাত থেকে রক্ষা  করতে ছানাতে তিনি চিনির রস ঢেলে জ্বাল দিয়ে নামিয়ে রাখলেন। এরপর মুখে দিয়ে দেখলেন, ওই চিনিমেশানো ছানার দারুণ এক স্বাদ হয়েছে। ভাবলেন, এটাও এক ধরনের মিষ্টি হিসেবে বিক্রি করলে ক্ষতি কী। কিন্তু নতুন মিষ্টির তো একটি নাম চাই। শুরু হলো চিন্তাভাবনা—যেহেতু চিনির রসে ডোবানোর আগে ছানাকে কিছুই করতে হয়নি অর্থাত্ কাঁচা ছানাই চিনির রসে ঢালা হয়েছে (সাধারণত রসগোল্লার ছানাকে তেলে ভেজে চিনির রসে ডোবানো হয়ে থাকে—তাই তার নাম হয়েছে রসগোল্লা) তাই নাম রাখলেন কাঁচাগোল্লা।

যা হোক, কাঁচাগোল্লার স্বাদ রসগোল্লা, পানিতোয়া এমনকী সুস্বাদুু সন্দেশকেও হার মানিয়ে দিল। এই মিষ্টিতে কাঁচা ছানার গন্ধ রয়েছে যা অন্য কোনো মিষ্টিতে আদৌ পাওয়া যায় না। ধীরে ধীরে মিষ্টি রসিকরা এই মিষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকলেন। মধুসূদনও নিয়মিতই এই মিষ্টি বানানো শুরু করলেন। ক্রমশ কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
 
 

No comments

Theme images by Jason Morrow. Powered by Blogger.