কবিতা
বিহন যন্ত্রণা
আনিয়ন বিন হায়দার (মাসঊদ)
সই গো আমি তোরে খুঁজছি কইতে কত মনের কথা
প্রিয়জনরে কইলে নাকি দুর হয়ে যায় বুকের ব্যথা।
এত দিন পর বুঝি গো তোর অভাগীরে পড়ছে মনে,
আমি তোরে কত খুঁজছি প্রতি দিনেই ক্ষণে-ক্ষণে।
আজকের এই পূর্ণিমাতে প্রাণাধিরাজ অচিনপুরে,
আমার বিষাদ বোঝেলো সই ডাকছে কোয়েল করুন সুরে।
হিমাংশু দেখ বড়ই নিঃস্ব তারা সবই মেঘের ঘোরে,
মুখপোড়া এই যৌবন বৃথা না টানলে সে বাহুডোরে।
শোনস নাকি সইলো আমার ঐ বাগিচায় কোকিল ডাকে,
আমার ব্যাথা সেও বোঝে মনের অনল ঝাঁকে-ঝাঁকে।
আমি নারী কইতে নারি সয়না আমার সখা বিহন,
ঘরের কাজে মন রয় না যে কলজে পোড়ে তুষের দহন।
আমি পাগল তার পিরিতে ঘর ছেড়ে সই হলামগো বের,
জাতের মাথায় ভাঙলাম হাড়ি খুঁজে নিলাম প্রাণেরই শের।
নিঠুরকালা বুঝল না সই চলে গেল পরবাসে,
আজকে আমার দেহ মাঝে কামাতুর এক চন্দ্র হাসে।
কি করি আর যাই কোথারে করতে সুধা আজ নিবারণ
চিকন কালা বুঝলনারে আমার দেহের এ জ্বালাতন।
তারে ছাড়া হলাম আমি ধরাতলে খুব অসহায়,
চলার শক্তি নেই যে আমার শিকল বাঁধা এই দুটি পায়।
তারে আমি বলেছিলাম বাড়ি ফিরে যেন ত্বরা,
তারে ছাড়া এই ফাগুনে আগুন সম তীব্র ক্ষরা।
এখন আমার চারপাশ জুড়ে আছে কত ঘোর হাহাকার,
পিরিত বিনে তার কাছে সই বলনা আমি কিবা চাই আর।
সাতটি ফাগুন রসাতলে সইরে শুধু তার বিরহে,
নদীর যখন বাঁধ ভেঙে যায় জোড়া দিলে আর কি সহে।
সইগো আমার প্রাণ জ্বলে যায় মন জ্বলে যায় বিরহে খুব,
প্রাণো সখার প্রেম সাগরে আজ না দিলে প্রিয় সই ডুব।
মরে যাব সইরে আমি আর সহে না বিহন প্রাণে,
কলজে পুড়ে হইছে কালা আমার খোদা এসব জানে।
আমার মাথায় তেল ঢেলে দে জল ঢেলে দে সারা গায়ে,
কূল ভাঙনের সময় আইছে শিকল পরা এই দু'পায়ে।
আমি যদি না থাকি সই তারে গো তুই সব কয়ে দিস,
তার বিহন না সইতে পেরে মুখে নিছি সর্পেরই বিষ।
স্বর্গ চাইনি নরক চাইনি চেয়েছি সই শুধুই তারে,
স্বর্গ নরক সেই প্রাণেশ্বর সই গো আলো অন্ধকারে।
প্রাণোস্বামী ফিরে এসে যদি কারণ জানতেও চায়,
বলিস তারে তার বিহনে চলে গেছি দূর অজানায়।
আমার মত যদি দেখিস তার হিয়াও এমন পোড়ে,
জানাই রাখিস তারই সাথে দেখা হবে পরপারে।
ছবিসহ লেখা পাঠান এই ঠিকানায়- kachagollamagzine@gmail.com
No comments