ছোটদেরও বুদ্ধি আছে
ছোটদেরও বুদ্ধি আছে
বিপ্লব ইসলাম
অনেক অনেক দিন আগের কথা। একরাতে বসেছিলাম খোলা আকাশের নিচে। চারদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার আলো আর শব্দ নিজের মনকে অন্যরকম স্বাদ উপভোগ করতে বাধ্য করছিলো। সেই সময়ে সেই স্বাদটা আরো উপভোগ্য হলো, গা ঠান্ডা করা রিমঝিম বাতাসে। হঠাৎ আচমকা পিছন থেকে কে যেন এই“ রমেশ ” এই “রমেশ” বলে ডাক দিল। প্রথমে খুব ভয় পেলেও পরে বুঝতে পারলাম সে আমাদের হরি কাকু। হরি কাকু হলো এলাকার সবচেয়ে বয়স জ্যেষ্ঠ লোক তার মুখে গল্প শুনেনি এমন বালক এলাকায় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! আমিও তাদের মধ্যে একজন। যাইহোক হরি কাকা আমাকে জিজ্ঞেস করল বাড়ি যাবে না?? আমি বললাম না। এখনই বাড়ি যাবো না। তোমার মুখে গল্প শুনবো। হরি কাকা বলল এখন আর গল্প শোনাবো না।
আমি হরি কাকার দুর্বলতা কি সেটা জানতাম এজন্য তার একটু প্রশংসা করলাম। হরি কাকা গলে গেল মুখে একটা মুচকি হেসে বলল গল্প শুনবি তাহলে শোন। এই বলে গল্প বলতে শুরু করল।
কয়েক শতক আগের ঘটনা রামগঞ্জে“ রামু ”নামে এক জমিদার বাস করত। তার ছিল অঘাত টাকা। অনেক সম্পত্তি। কিন্তু তার জমিদারিত্বের প্রজারা সুখী ছিল না। মানুষজন ছিল অবহেলিত, উপেক্ষিত। তারা সব সময় লাঞ্ছনা আর বঞ্চনার শিকার হতো। তাদের কাছ থেকে আদায় করা হতো অধিক পরিমাণে কর। যে কারণে তাদের জীবন কষ্টে কাটতো। রামু জমিদারের ফুটফুটে একটা সন্তান ছিল তার নাম ছিল মোহন। দুষ্টুমি আর বিচক্ষণতায় সে ছিল অনন্য। পাশাপাশি তার খুব রাগ ছিলো। আর সেই রাগ ছিল তার বাবা রামু জমিদারের উপর। কারণ তার বাবা প্রজাদের কষ্ট দিয়ে টাকা আদায় করতে এটা তার পছন্দ ছিল না। তাই সে সুযোগ পেলে বুদ্ধি বের করে প্রজাদের সাহায্য করতো। আর সেই কারণে তার প্রচুর মার, মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকতে হতো তাকে।মাঝে মাঝে প্রাসাদের বাইরে থাকতে হতো তাকে। তারপরও সে অনেক সুখি ছিল আর সেই কারণে সব সময় বলতো আমি আমার বাবার ক্ষতি করে সুখী। মোহন গুলতি চালাতে খুব ভালবাসত তার ছিল অনেকগুলো গুলতি। শেষে গুলতি দিয়ে তার বাবার অন্যদের মারত আর খুব মজা নিত। হঠাৎ একদিন প্রজাদের দুঃখ দুর্দশা দেখে মোহন বুদ্ধি বের করে তাদেরকে সাহায্য করে। সেটা তার বাবা জানতে পেরে তাকে শাস্তিস্বরূপ প্রাসাদের বাইরে থাকতে বলে। রাজপ্রাসাদের সকল আলো যখন অন্ধকারে সাথে মিশে যায়। তখন মোহন কিছু অস্পষ্ট আওয়াজ শুনতে পায়। ধীরে ধীরে আওয়াজ গুলো স্পষ্ট হয়। মোহন বুঝতে পারে এটা ঘোড়ার পায়ের আওয়াজ। এক ঝাক ঘোড়া রাজ প্রাসাদের দিকে ছুটে আশসছে। এটা দেখে মহোন বিচলিত হয়। তাদের পিছে পিছে যায় মোহন। গিয়ে দেখে তারা আগন্তুক ব্যক্তি। তারা তার বাবাকে আটক করেছে। রাজপ্রাসাদের চারদিকে হৈ হৈ আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আগন্তুক ব্যক্তিগুলো যাকে যেখানে পাচ্ছে সেখানে আটক করছে, বেঁধে রাখছে, মারধর করছে। মোহন লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়ির পিছনের গোপন দরজা দিয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করে। প্রবেশ করার পর মোহন আগন্তুকের কথা লুকিয়ে শোনে। “ আগন্তুক লোক গুলো তার বাবার গলায় ছুরি ধরে বলছে, কোষাগারের চাবি দে নইলে মোর”। তখন বিচক্ষণ রাহুল লুকিয়ে এক আগন্তুক ব্যক্তিকে তার গুলতি দিয়ে আগন্তুক এর চোখে মারে। এবং কিছু হাত-পা বাঁধা লোকদেরকে উদ্ধার করে। এবং তাদের তার জমানো গুলতি দেয় এবং আলাদা আলাদা জায়গা থেকে একযোগে হামলা করতে বলে।হটাৎ মোহন আগন্তুক ব্যাক্তিদের সরদার এর সামনে এসে দাঁড়ায়। এবং বলে ছেড়ে দে তোরা আমার বাবাকে ছেড়ে দে। আগন্তুক সরদার বলে উঠে বহুৎ সাহস তোর।এই কে আছিস ওকে ধর। তখন মোহন জোরে চিৎকার করে বলে মারো। তখন চারদিক থেকে গুলতির গুলি গুলো আগন্তুক ব্যক্তিদের চোখে এসে লাগে এবং সবাই চোখ ধরে বসে পড়ে। তখনসৈন্যরা এসে আগন্তুকদের আটক করে এবং কয়েকজন কে আহত করে। তখন জমিদার সাহেব ডুকরে কেঁদে উঠে বলে বাবা তুই আমার রত্ন, তুই আমার সম্পদ। আমি এত অর্থ দিয়ে কি করব। আমি এখন থেকে আর প্রজাদের উপর ব্যভিচার করব না, অন্যায় করবো না। তখন রামগঞ্জ হয়ে ওঠে সুখী, সুন্দর স্বচ্ছল গ্রাম।
গল্পটা শুনে আমি শিহরিত হলাম তখন হরি কাকা আমায় বলে উঠলো রমেশ, “ছোটদের কিন্তু বুদ্ধি আছে”

ছবিসহ লেখা পাঠান এই ঠিকানায়- kachagollamagzine@gmail.com
No comments