মোঃ কামরুজ্জামান বাবু'র অণুগল্প
অস্তিত্বের ঘ্রাণ
মোঃ কামরুজ্জামান বাবু
সবকিছুকে
ছাপিয়ে সুখের রশ্মিগুলো যখন আলতো মায়ায় কষ্টের প্রখরতাকে মিলিয়ে দেয়
অজানার দুর্গম মোহনায় , যখন মৃদু সমীরণে কেঁপে উঠে বুকের নষ্ট পাঁজর , পচে
যাওয়া আত্মা তীব্র ফুসলে উঠে আমাকে জানান দেয় সগর্বে , সদর্পে স্বপ্নের
স্বাপ্নিক শিহরণ , যখন অভিমানী পুলক নষ্ট অতীতের জমিনে চাষের অব্যহতি দিয়ে
দ্রুত পদ সঞ্চালনে মন মন্দিরের ঘন্টায় সুর তোলে – তখনই বেজে উঠে কর্ণবেহালায়
তোমার চিঠির শব্দগুলোর সুমধুর ঝংকার , যে ঝংকারে কৃত্রিমতা নেই ,
কাঠিন্যতা নেই – আছে নেহায়েত-ই ভাললাগার , কিছু পাবার কঠিন স্বীকারোক্তি –
যা নির্দ্বিধায় করে যাচ্ছি ।
আমার
অবিনাশী প্রাপ্তি শুণ্যে নয় , তরঙ্গের মোহনায়ও নয় ; তরঙ্গের আছড়ে পড়া
বন্দরে নোঙ্গরায়ন সমর্পন দিতে চাই না সমর্পন দিতে চাই না বলেই বৃথা
প্রচেষ্টার অপেক্ষায় তোমার মনের চারটে কথার কথনে মূল্যবান তোমার সময়ের
অবমূল্যায়ন ঘটানোর প্রয়াসে পাঠিয়ে দিলাম বিধবা রঙ পাতার বুকে গুঁটি গুঁটি
অক্ষর বসানো বরাবরের মতোই পূনঃনিরর্থক এই অন্তর পত্র পল্লব । সত্যি-ই আমি
ভাল আছি , এখনও নূপুরের শব্দ শুনতে পাই , বাতাসে প্রথাগত মোহের গন্ধ পাই ,
অনুভবে কাজল রঙ চুলের ঝাপটায় চোখ বন্ধ করতে জানি , ঝিনুকের খোলসে মুক্তোর
অবস্থানের সুখ কুঁড়োতে জানি , স্বপ্ন বুনতে পারি আজও কিন্তু পারছি না
স্বপ্ন দেকতে জান সেই চোখের দৃষ্টিকে আলোহীন করে দিতে , ধ্বংস করতে ঐ চোখের
নিষ্ঠুর অবাধ্যতার অস্তিত্বকে ।
আমার
আকাশের চাঁদটাকে ফালি ফালি করে কেটে পূনর্বার মেঘের শরীরে ঢেকে চাঁদের
পূর্ণতা দেবার প্রচেষ্টা চোখের জলকে ক্রমাগত ঝরিয়ে যাই , আমার চাঁদের কাটা
কাটা টুকরোগুলো এক হয় না , জোছনার ঝর্ণাধারায় মন বন্দর প্রবাহিত করে না ,
মেঘের বুকেই নীরবে , নিঃশব্দে অভিমানী মেঘেদের অতল গহ্বরে তলিয়ে যায় আর
আমায় করে দেয় চাঁদশূণ্য , জোছনাশূণ্য ; হয়তো হয়তো কখনও নোঙর ফেলবো
মৃত্যুকূপের স্বচ্ছ জলে – যে জলে শরীর পোড়ে , অন্তরাত্মা পোড়ে , আর এ পোড়া
গন্ধ যেনো তোমার নাসারন্ধ্রে না পৌঁছায় , তোমায় যেনো বিষন্ন করে না তোলে ।
![]() |
| মোঃ কামরুজ্জামান বাবু |
আমি
কখনও হয়তো তোমার মনোঃপথের ধূলো মাড়াতে আসবো না – কারন তোমার মনোঃপথের
ধূলোকণা আমার দগ্ধময় অতীত , বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভার বইতে পারে না , পারবেও
না । চিৎকার করে তোমার আত্মজগতসমগ্র নিঃস্ব করবার বীণায় সুর তোলবে , তার
চেয়ে বরং মেঘের ভেলার বাহক হব আমি , নিয়ন্ত্রিত হবে তোমার দুঃখসমগ্র ,
মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলবে , ছন্দ তুলবে সুখতরঙ্গ , মোদ্দাকথা – আমি
আমার অবস্থানের পরিধি তোমার জগতের বুকে আঁকবো না । তুমি ভালো থাকবে
পার্থিব সব উজ্জ্বলতা , উচ্ছ্বলতার মহীমায় মহিমান্বিত হয়ে ।
শন
পাতার চালে শুকনো গমের চাটাইয়ের বেড়িতে যে আবাসন , মাথার উপর একপায়ে
দাঁড়ানো তালগাছের বৃত্তাকার ছায়া , পাশেই বয়ে যাওয়া কোমল নদীর শান্ত জলের
শীতলতা , সবুজ ধানক্ষেতের শালিক পাখির অবাধ বিচরণ করার অভুতপূর্ব নির্মল
দৃশ্য – আমারই , আমিই থাকি এইসবের সর্বত্র যদিও এখানের সবই , যা আছে তা
স্বপ্নলোকের এক টুকরো মৃত্তিকার স্তব্ধ অনশন ।
তোমাকে
কখনও আমন্ত্রণ জানাবো না , আহ্বান করবো না – ‚ এসো , পরম মমতায় " , বরং
বাতাসের কোমল গন্ধে শুষে নেবো তোমার অস্তিত্বের ঘ্রাণ ।
ছবিসহ লেখা পাঠান এই ঠিকানায়- kachagollamagzine@gmail.com

No comments