Home

বিজ্ঞপ্তি- কাঁচাগোল্লা ম্যাগাজিনের নিয়মিত প্রকাশনা চলছে। এখনই আপনার স্বরচিত সাহিত্যকর্ম পাঠিয়ে দিন। ই-মেইল করুন: kachagollamagzine@gmail.com  
    আপনার লেখা প্রকাশের নির্ভরযোগ্য ম্যাগাজিন। 


আনোয়ার হোসেন মামুনের ছোট গল্প: ত্যাগ

ত্যাগ

আনোয়ার হোসেন মামুন


সম্পর্কটা ছিল তাদের খুব কাছাকাছি বলতে হয় একই বংশের,
কিন্তুু আজ প্রাচীরে ঘেরা সম্পর্কে কারো সাথে কারো এক চুল পরিমান ও কথা নেই আর যদি ও দেখা হয়, তাহলে বুকের বিতরে দাউ দাউ করে জ্বলে বেদনার আগুন, ঘোর শত্রু যেন দুইটি পরিবার,

সেই ছোট বেলা থেকে পৃত্রহীন ললিতা ছিল অতি সহজ সরল সুন্দর রুপবতী এক কন্যা ,প্রকৃতির সাথে ছিল তার বসবাস। তার মনটা  যেন প্রকৃতির শান্ত শীতল সমীরের মত কোন দিন ও কল্পনা করে নাই তার শীতল মনে একদিন দাউ দাউ করে জ্বলবে বিরহের আগুন। ত্যাগ করতে হবে তার পরিবারকে। 

ফিকু ও ছিল তাদের বংশের ছেলে, তার পিতা মৃত্যুর পূর্বে তাদের পরিবারকে বলে গেলেন, 
তার এক মাত্র ভাইজি পৃত্রহীন কন্য ললিতাকে তাদের ছেলের বৌ করে আনতে,কারন ছোট কাল থেকে ললিতা তাদের হাতে বড় হয়ছে।

এদিকে ললিতা বড় হল আঠার বছরে পা দিল তাই ললিতার বিয়ে নিয়ে দুই পরিবার ও প্রতিবেশির মাঝে তার কথা শুনা যাচ্ছে। ফিকুর পরিবার থেকে উভয়ের আত্নীয় এক উকিল প্রেরণ করল ললিতার মায়ের কাছে।
ললিতার মা মনে করল,
-ফিকুতো আমাদের নিজেদের মধ্যে দেখতে শুনতে বেশ নম্র ভদ্র  শিক্ষিত, বড় একটা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে তাতে আমার কোন আপত্তি নেই।
এই কথা শুনে উকিল জমির মিঞা উভয়ের মতামত নিয়ে দিন তারিখ ধার্য করে, আসছে প্রাল্গুুনের ১ লা তারিখে বিয়ে।
বিয়ের সব আয়োজন সম্পূর্ণ মাত্র কয়েক দিন বাকি, এমন অবস্থায় ফিকু তার পরিবারকে জানায়,ললিতাকে বিয়ে করা তার সম্ভব না, তাকে তার পছন্দ না।

এই কথা যখন সবার কানাকানি হয় তখন সমাজে নিজেদের সম্মান রক্ষার জন্য ললিতার মাকে জানায় ফিকুর ছোট ভাই মহিনের বৌ করে নিবে। তবে মইন যখন বিদেশে তার আশা পযার্ন্ত আপনাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে দুই মাস পর আসার কথা ছিল যদিও মইনের সে দুই বছরে ও আসেনি। 
ললিতার মা  বলে আপা,
 -আপনারা কী ললিতাকে বৌ করে নিবেন?  কবে নিবেন?  মইন কবে আসবে? দুই মাসের বদলে আজ দুই বছর হল, 
ললিতাকে নিয়ে কানাকানি চলছে। মেয়েকেতো আমার বিয়ে  দিতে হবে। চারদিক থেকে বিয়ের জন্য আসতেছে।
মইনের মা আরো দুই মাস সময় নিল
ঠিক দুই মাস পর মইন আসলো বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করল আশ্রিণেন বার তারিখ।
ধুম ধাম করে বিয়ে হল ললিতাকে মইন বৌ করে নিল, তবে প্রথম রাত থেকে মইন নব বধূর সাথে কথা বলে না। যেন কেউ কাউকে আগে দেখেনি, অথচ দু'জনে একই বংশের। 

ললিতা একটা কথা জিজ্ঞেস করে, আপনি কি আমাকে পছন্দ করেন না।
কোন কথা নেই
 সাড়া শব্দ নাই, ঘাটের এক কোণে সুয়ে থাকে মইন। 
নব বধূ ললিতা মনে করে,
-কেন এমন হচ্ছে, কী আপরাদ ছিল যে প্রথম রাতে তার স্বামী কথা বলে না, অথচ এই রাতটা একটা নারীর জীবনের সবছে বড় পাওয়া।

প্রকৃতির সকাল হল, তবে ললিতার মনে আজো যেন গ্রহীন অন্দকার। 
কিছুটা ভয় কিছুটা লজ্জা নিয়ে স্বামীকে ডাকে, 
উঠবেন না সকাল হয়ে গেল।
মইন কিছু না বলে শুধু একবার তার দিকে তাকিয়ে দেখে। 
ললিতা স্বামী কে নাস্তা দিয়ে ঘরের কাজ গুলো সেরে নিন, মইন ততক্ষণে বাহিরে গেল।

সকাল হল দুপুর গেল সন্ধ্যা প্রায় গনাগনি মইন তখন আসলো। ললিতা জিজ্ঞেস করল, 
সারাদিন কোথায় ছিলেন আমি যে আপনার জন্য সারা দিন অপেক্ষা করতেছি।
মইন বললো, তুই কিছু জানতে চাইবিনা।
ললিতা ভয়ে আর কিছু বলেনি। 

দুই তিনদিন গেলো মইন ঠিক আগের মত, নতুন বৌয়ের সাথে কথা বলে না, নিয়মিত ঘরে ও আসে না। 
কিন্তুু মইন তার ভাবির সাথে ঠিকই কথা বলে।
মইন যখন কলেজে পড়তো তাকে নাকি খুব ভালোবাসতো, কিন্তুু আজ তার বড় ভাবি,তবে তাদের এই সম্পর্ক অন্য কেউ জানে না। 

এইদিকে ললিতার উপর প্রতিহিংসা শুধু হল কিভাবে মইন থেকে দূরে রাখা যায়,
কারন ললিতা যদি সংসারের ভার গ্রহন করে, তাহলে বড় বৌ হিসাব তার অধিকার কমে যাবে।  কৌশলে ললিতা যদি তার শাশুরি থেকে টাকা পয়সা বিষয় সম্পত্তি নিজের করে নেই।
এই নিয়ে ভাবি (সুমিতা) তার শাশুরিকে ললিতার নামে বিভিন্ন কথা বল,আজ ললিতা এই অন্যায় করেছে মইনের সাথে জগড়া করেছে। 
আপনি যখন থাকেন না, তখন তার মায়ের কাছে গিয়ে চুপিচুপি কি যেন বল।

একদিন ললিতা শাশুরিকে বললো,মা
আপনার ছেলে আমার সাথে ঠিক মত কথা বলে না, কিছু জিজ্ঞেস করলে বলে আমি তার কেউ না।

মা আমি কি করলাম সেদিন রাতে আমান বাপ তুলে গালি দিলো,আজ তিন মাস হল আমাকে গ্রহন করতে ও রাজি না।
শাশুরী বললো আমি কি যানি তোদের ব্যপার,
তোর কারনে আমার ছেলে কারো সাথে কথা বলে না, তুই একটা অলক্ষী মেয়ে ঘরে আসতে না আসতে সাংসারে আগুন লেগে দিলি। 
ঘরের বৌ ঘরে থাকবি ঘর থেকে বাহির হবি না। তোর মা যদি এতো মায়া দেখায় তাহলে বিয়ে কেন দিল,ঘরে রেখে দিত।

এই ভাবে ছয় মাস গেল,কয়েক দিনপর রোজা শুরু হবে তার আগে শাশুড়ি বলে তোর মাকে বলবি  ইফতারি দিতে আমার আত্নীয় স্বজন অনেক। গত বছর বড় বৌয়ের বাপের বাড়ীতে থেকে যা এসেছে তা আত্নীয় স্বজনের বাড়ীতে দিতে পারিনি।

ললিতা তার মাকে  বলার তিনদিন পর  ইফতারি, ঈদের নতুন কাপর আনলো মেয়ের সুখের জন্য। মেয়ে যে কত সুখে আছে মেয়ে কোন দিন জানতে দেয় নি।
মইনের শাশুড়ি জিজ্ঞেস করে জামাই কোথায়?
ললিতা বলে বাড়িতে অাছে ডাকতেছি।

ললিতার মইনকে এদিক ওদিক  খুঁজা খুঁজির পর মইনের গলার অাওয়াজ যেন শুনতে পায় সুমিতার ঘরে। 
ললিতার মনে সন্দেহ জাগলো কীসের এতো মধুর হাসি, যে হাসি অন্তরের গ্রহীন থেকে আসতেছে।মইনতো আমার সাথে আজ পযার্ন্ত একটু কথা বলে নাই।  ললিতা এগিয়ে দেখে দু'জনে হারিয়ে গেছে যেন মৌমাছি  ফুলের পরাগ মাখার মধ্যে।

ললিতার দেখে চিৎকার করল,
 মইন তাকে দেখে উল্টো ললিতার গায়ে খুব আঘাত করল, 
 তোকে বলছিনা ঘর থেকে বাহির না হতে এখানে কেন এলি। খারাপ ভাষার শেষ শব্দটি পযার্ন্ত বললো,তার মা বাপ ও রক্ষা পেল না। 

এই খবর যখন সবার জানাজানি হয়।
ললিতার মা তার বেয়াইনকে জিজ্ঞেস করে, 
-বেয়াইন কী হচ্ছে এই গুলো?
শাশুড়ি বললো, 
-আপনার মেয়ে আমার ছেলেটার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে, ধ্বঃস করে দিয়েছে আমার পরিবার।
কাল নাগিনির পোষেছি । আমার ভুল ছিল ছেলেকে  বিয়ে করিয়ে। 
আগে যদি বুজতাম তাহল সাত জনমে ও সম্পর্ক করতাম না।
ললিতার মা ললিতাকে সাথে নিয়ে আসতে চাইলে, মইনের মা বলে নিয়ে যান আমরা ছেলেকে বিয়ে করাবো, একে বারে নিয়ে যাই।

সেই গঠনার পর এক বছর পার হল, মইন ও বিদেশ চলে গেল। একটি বার ফোন করে জানতে  চায়নি ললিতা কেমন আছো। 
বরং প্রতিবেশির কাছে ফোন করে বলে আমি তাকে রাখবো না।
মইনের মা তার বড় বৌকে কিছু বলে নাই,কারন তারা বলে ললিতা মিথ্যা বলছে,স্বামীকে না পেয়ে। পরের স্ত্রীর সুখ সইতে না পেরে মইনের উপর অপবাদ তুলে দেয়।

ললিতার মা সমাজের কয়েকজন কে জানায় কেন তারা ললিতার উপর এতো অত্যাচার করলো হাত পা ভেঙ্গে দিল কি দোষ ছিল তার?
দু'দিন পর বিচার বসলো, বিচারে ললিতার কোন দোষ পায়নি, সব দোষ ছিল মইনেরর পরিবারের।
মইন বললো সে ললিতাকে রাখবেনা, সে তার সিন্ধান্তে অটল,যত টাকা কাফিন হল সব দিয়ে দিবে। 
শুক্রবার সন্ধায়  কাল বৈশাখের  জড় শুধু হল, কাজী যখন রেজাঃটার খাতায় ললিতার সাক্ষর দেওয়ার জন্য বললে, 
ললিতার দুই চেখের অশ্রু ঝরা সুধু করে, উপস্থিথ সবাই ললিতার কান্না দেখে কেঁদে দেয়।কারন ললিতা ছিল নিষ্পাপ। মইন যদি স্ত্রী না রাখে তাহলে সমাজের কী আর করা।
কাল বৈশাখের জড়ের  রাতেই ললিতাই উপর জড় শুরু হল।
রাতে ললিতা নিজের গলায় ওলনা দিয়ে ফাঁসি দিল।ললিতা ত্যাগ করলো তার জীবন,পরিবার, স্বামী অথচ তার বিন্দু পরিমান ও দোষ ছিল না।
 
 
ছবিসহ লেখা পাঠান এই ঠিকানায়- kachagollamagzine@gmail.com

No comments

Theme images by Jason Morrow. Powered by Blogger.